মঙ্গলবার l ৭ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ l ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ l৩রা জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি
শাহজাদপুরে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা - Daily Ajker Sirajganj

শাহজাদপুরে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করছেন চিত্রনায়িকা বর্ষা

বিশেষ সংবাদদাতা :
পুরো নাম খাদিজা পারভীন বর্ষা। চিত্রনায়িকা বর্ষা হিসেবেই ব্যাপক পরিচিত তিনি। ‘খোঁজ-দ্য সার্চ’ সিনেমায় অভিনয় করে চলচ্চিত্রে পা রাখেন বর্ষা। ইফতেখার চৌধুরী পরিচালিত এ সিনেমায় চিত্রনায়ক অনন্ত জলিলের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তিনি। এরপর একসঙ্গে অনেকগুলো সিনেমায় অভিনয় করেছেন অনন্ত-বর্ষা। পর্দার জুটি বাস্তব জীবনেও সফল জুটিতে পরিণত হয়েছে। চিত্রনায়িকা বর্ষার জন্মস্থান সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের গারাদহ ইউনিয়নে। সেখানেই বেড়ে উঠেছেন এই নায়িকা। এদিকে নিজের এলাকায় একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করছেন খাদিজা পারভীন বর্ষা। ইতোমধ্যে এর কাজ সিংহভাগ শেষ হয়েছে। চলছে শেষ মুহূর্তের ফিনিশিং। আকর্ষণীয় নকশায় নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।

বাংলাদেশের ইতিহাসে চিত্রনায়িকাদের উদ্যোগে এরকম মসজিদ নির্মাণের ঘটনা খুবই বিরল। সরেজমিনে চিত্রনায়িকা বর্ষার গারাদহ গ্রামের পিত্রালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গারাদহ পুরাতন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়কের গাঁ ঘেষে ১ বিঘা জায়গার উপর এই মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে। মহাসড়কের পাশেই করতোয়া নদীর কোল ঘেঁষে একটি দৃষ্টিনন্দন ও সুদৃশ্য মসজিদের সৌন্দর্য উকি দিচ্ছে মানুষের চোখের কোনে। প্রধান ফটক ও সীমানা দেয়াল মোঘল আমলের ইসলামী অবয়বে নির্মাণ করা হয়েছে। প্রধান ফটক ও দেয়ালের নির্মাণ কাজ শেষ এখন শুধু রং মাখানো বাকি।

প্রধান ফটকের ভেতরে প্রায় বিস্তৃত ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে এবং মুল মসজিদটি নির্মাণ করা হচ্ছে সাড়ে ১২ শতাংশ জায়গার উপরে। এক তলা বিশিষ্ট এই মসজিদ কমপ্লেক্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোনে প্রায় ৫৫ ফুট উচ্চতার একটি মিনার তৈরি করা হয়েছে। মসজিদের ভেতরে ও পাশের ওজুখায় কাজ করছেন রাজমিস্ত্রীরা, তাদের দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। মসজিদের কেয়ারটেকার ও নায়িকা বর্ষার খালু মো. ইয়াকুব প্রামাণিক বলেন, প্রায় ১ বছর যাবৎ মসজিদের নির্মাণ কাজ চলছে। ‘মসজিদটি নির্মাণে কোনো বাজেট নির্ধারণ করা নেই। মসজিদটি নির্মাণে যতো টাকা লাগবে তা আমার ভাগ্নী ব্যয় করবে। তিনি জানান, মসজিদের প্রবেশ মুখের ছাদে একটি দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরে ও দেয়ালে টাইলস লাগানো হবে। মসজিদের ভেতরের ৯০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। মোট ২০টি দৃষ্টিনন্দন জানালা রাখা হয়েছে।

এই মসজিদে নারীদেরও নামাজের ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মুসল্লীদের জন্য মসজিদের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে দুইটি ওজুর স্থান ও দ্ইুদিকেই শৌচাগার রাখা হয়েছে। সবমিলিয়ে আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে মুসল্লীদের নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে বলে মনে করছি। এবং ডিসেম্বরের শেষ সময়ে এই দৃষ্টিনন্দন মসজিদের উদ্বোধ করবেন আমার ভাগ্নী বর্ষা ও তার স্বামী চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল। চিত্রনায়িকা বর্ষার পিতা মো. আঈনুল হক বলেন, আমার মেয়েকে ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে মানুষ করেছি। সে যতো বড় মাপের মানুষই হোক না কেন তার ধর্মীয় অনূভুতি প্রবল। সে প্রতিদিন ফজরের নামাজ আদায় করে কোরআন তেলাওয়াত করে।

সে মসজিদ নির্মাণ করেছে এই নিয়তে যেনো আল্লাহপাক খুশি হন এবং তার স্বামী অনন্ত জলিল, ২ সন্তান, পিতা মাতা ও সকল আত্মীয়স্বজনকে এহকাল ও পরকালে ভালো রাখেন। গারাদহ গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্ষার মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ অত্যন্ত উত্তম একটি বিষয়। মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের যাত্রীরা এখানে নামাজ আদায় করতে পারবেন। তাছাড়া দৃষ্টিনন্দন এই মসজিদের কাজ শেষ হলে অত্র অঞ্চলের মুসলিমদের কাছে এটা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই বিষয়ে চিত্রনায়িকা বর্ষার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সব কিছু ঠিক থাকলে ইনশাআল্লাহ আগামী ডিসেম্বর মাসে উদ্বোধন করা হবে। উদ্বোধনের সময়ই এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

 

আজকের সিরাজগঞ্জ / মুক্তা পারভীন

© All rights reserved © 2017 Dailyajkersirajgonj.com

Desing & Developed BY লিমন কবির